গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা ভূ-উষ্ণায়ন

এপ্রিল 24, 2010

ভূ-উষ্ণায়ন-প্রাক-কথন


গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা ভূ-উষ্ণায়ন পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের কোনও সাম্প্রতিক রোগ নয়, এ হলো রোগের লক্ষণ। রোগ লুকিয়ে আছে বর্তমানে প্রচলিত যান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতির গভীরে। যে উৎপাদন পদ্ধতির কেন্দ্রীয় ভাবনা হলো, মানুষ সর্বশক্তিমান। যে মানুষের গন্ডি আবার ক্রমশ ছোট হতে হতে হাতে গোনা কয়েকটি বহুজাতিক কর্পোরেশনে পর্যবসিত। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে সভ্যতার এই ভাবনা নিয়ে চলা দ্রুততর হয়। তার আগে পর্যন্ত মানুষের প্রকৃতি নির্ভরতা বেশি থাকায় উৎপাদন পদ্ধতির সঙ্গে প্রকৃতির ভূ-জৈব রাসায়ানিক চক্র এবং অদৃশ্য অথচ গোপন গভীর শৃ‍‌ঙ্খলার মিল ছিল। বৈজ্ঞানিক ভাষায় যে উৎপাদনকে বলা যায় সাসটেইনেবল বা দীর্ঘস্থায়ী। চিন্তাবিদ জে ডি বার্নালের মতে প্রকৃতিতে বিবর্তনের পথে মানুষ আসার পর, তার ক্ষেত্রে প্রকৃতির অন্যান্য প্রজাতি সঙ্গে ‘স্ট্রাগল ফর একজিস্টেনশ’ অর্থহীন। অর্থাৎ যদি অন্যান্য প্রজাতির সঙ্গে মানুষ এই লড়াই লড়ে তবে অন্যরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এই সত্য ইতিমধ্যেই প্রমাণিত।
(পরবর্তী অংশ)


২০১২ – দ্য নিউ অর্ডার

এপ্রিল 21, 2010


এর মধ্যে আমরা অনেকেই হয়তো দেখে ফেলেছি ‘২০১২’ ছবিটি- মহা প্রলয়ের ছবি। বহুকাল আগে মায়া সভ্যতার মানুষেরা ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন ২০১২-র ২১ ডিসেম্বর পৃথিবীতে শুরু হবে ‘নিউ অর্ডার’। কী সেই ‘অর্ডার’ — সেদিন কি হিন্দুদের মহাপ্রলয় বা খৃষ্টানদের ‘Apocalypse’ এর মাধ্যমে পৃথিবীতে ঈশ্বরের শাসনের সূচনা। তার ওপর বিস্তর গবেষণা চলছে। সিনেমাটিতে দেখিয়েছে সূর্যের বিকীরণে হঠাৎ বিস্ফোরণ, পৃথিবীর ভূচুম্বকীয় ক্ষেত্রে পরিবর্তন, টেকটনিক প্লেটগুলির নড়াচড়া, ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলের তাপমাত্রা অসম্ভব বেড়ে যাওয়া এবং এর সামগ্রিক ফলে এক সঙ্গে প্রলয়ঙ্কর ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরিরগুলোর জেগে ওঠা এবং পরিশেষে প্রবল সুনামি। প্রথম আক্রান্ত আমেরিকা, হাজারো সাধারণ মানুষের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সুনামির ঢেউয়ে মিলিয়ে জান জলে। ছবির শেষে দেখা যায় প্রলয়ের শেষে আবার প্রকৃতি শান্ত, যেন এক নতুন যুগে, নোয়ার নৌকোর আধুনিক সংস্করণ বিশাল জাহাজের কিছু মানুষ যাত্রা শুরু করেছে আফ্রিকার ‘কেপ অফ গুড হোপ’-এর উদ্দেশ্যে। এটা কি প্রতিকি। প্রথম আক্রান্ত আমেরিকা, যারা দূষণের প্রধান অংশিদার। আর আশ্রয় সেই আফ্রিকা – যেখানে বনরাজি এখনো কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়নি- সেই প্রকৃতির কাছেই আশ্রয়। আমাদের চিরাচরিত উন্নয়ন ভাবনাই আজ প্রশ্নের মুখে। আরো sustainable development এর কথা আমাদের ভাবতে হবে, global worming নিয়ে আরও সদর্থক হতে হবে। (এ বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে লেখা যাবে)।


নব আনন্দে জাগো

এপ্রিল 15, 2010

নতুন বছর সুখে সমৃদ্ধিতে পূর্ন হয়ে উঠুক সকলের। সকল দীনতা, মলিনতা ঘুঁচিয়ে আমরা যেন আলোর পথযাত্রী হতে পারি।
পয়লা বৈশাখের প্রাসঙ্গিকতা অর্থনৈতিক দিক থেকে আর নেই সেই স্থান দখল করেছে ৩১ মার্চ, আচার অনুষ্ঠান ছাড়া বাংলা তারিখের হিসেবও আমাদের মনে থাকেনা। তবুও বাঙ্গালীরা আবেগে, সাস্কৃতিক কর্মকান্ডে পয়লা বৈশাখের উৎসব পালন করে চলেছি চলবোও। সকালের প্রভাতফেরীতে, বিকেলের গানমেলায় আমাদের পয়লা বৈশাখ। আমরা শুভেচ্ছা জানাই পরস্পরকে ভাল থাকার, আমরা শপথ নিই ভাল হওয়ার। আচ্ছা শপথটা যদি এরকম হয়-


‘মানুষের প্রিয়তম সম্পদ তার জীবন,
এটা সে একবারই পায় এবং
এই জীবন তাকে এমনভাবে কাটাতে হবে
যাতে কেটে বছরগুলি সম্পর্কে
যন্ত্রণাদায়ক দুঃখের অনুভুতি
না জাগে,
অতীতের হীনতা ও তুচ্ছতার লজ্জা
যেন তুষের আগুনের মত না পোড়ায়,
এমনভাবে বাঁচতে হবে
যাতে মরার সময় সে বলতে পারেঃ
আমার গোটা জীবন,
আমার সমস্ত শক্তি আমি উৎসর্গ করেছি
জগতের মহত্তম লক্ষ্যে– মানব জাতির
মুক্তির জন্যে– সংগ্রামের লক্ষ্যে’।

— নিকোলাই অস্ত্রোভস্কি


“জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক…….”

এপ্রিল 9, 2010

দেখতে দেখতে একটা বছর পার করে দিলাম। প্রতিদিনের ভাললাগা না লাগায় , প্রেমে অপ্রেমে, অনুরাগে ঈর্ষায়, আত্মভরিতায়, পরশ্রীকাতরতায় বাঁচতে বাঁচতে আরও একটা বছর। শুধু বয়সের পিলারে আরো একটা ইট চাপল। খুঁজে পেলাম না অপরের মুখ ম্লান করে দেওয়ার চেয়ে প্রিয় সুখ, খুঁজে পেলাম না স্বপ্নলোকের চাবি।

আমরা দেখলাম নিদারুন রুচির অবনমন, ভাষা ব্যবহারের অসংযম, শালীনতা বোধহীনতা। না কোন সাধারন মানুষের নয়, তথাকথিত বিদ্বজনদের, রাজনৈতিক মহারথীদের, এক কথায় সমাজপতিদের। রকে ব্যবহারের ভাষা রাজনৈতিক মঞ্চে, টিভি ক্যামেরার সামনে ব্যবহার করা চলতে থাকল। এক শ্রেণীর সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল সেই সব নিম্ন রুচির নেতা-নেত্রীর কুরুচিকে বৈধতা দিচ্ছেন এটাকে জনগনের ভাষা বলে। কিন্তু সত্যিই কি জনগন এই ভাষায় কথা বলে? মোটেই না। আমরা তো বলি না। তাহলে কোন জনগনের ভাষা এটা? কি জানি?

পুরনো খারাপগুলোকে আমরা বয়ে নিয়ে যেতে চাইনা নতুন বছরেও। জানিনা বছর শেষে আমরা এই ক্লেদ্গুলো পেছনে ফেলে নতুন বছরের দিকে যেতে পারব কি না? কিন্তু আশাবাদী হওয়া ছাড়া আর কিইবা করতে পারি আমরা।


“যেখান এক মুঠো ভাতই ঈশ্বর”

এপ্রিল 3, 2010

সেই কেওনঝড়, যেখানে ফাদার স্টেইন ও তার দুই শিশুপুত্রকে জ্বালিয়ে দেয়।


কাঁধে একটা ঝোলা নিয়ে অচেনা অজানা জায়গায় বেড়িয়ে পরার শখটা ছিলই। পূজোর সময় এক বন্ধুকে সঙ্গিও পেয়ে গেলাম। ঠিক হল কেওনঝড় যাব। জায়গাটা বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে উড়িষ্যার মালভুমি অঞ্চলে। এক্সপ্রেসে সময় লাগবে ঘন্টা চারেক, কিন্তু মাঝরাতে গিয়ে পৌছতে হবে। আর একটা বিকল্প ছিল, পুরি প্যাসেঞ্জার, রাত সারেএগারোটায় ছেড়ে ভোরে পৌছনো‌, আমরা এই বিকল্পটাই পছন্দ করলাম। যথা সময় ট্রেন ছাড়ল। সহযাত্রীরা সবাই উড়িষ্যার মানুষ, কলকাতায় কাজ করে, পূজোর ছুটিতে দেশে ফিরছে। ভোরে ট্রেন পৌছল কেওনঝড় রোড স্টেশনে। বাইরে গেলে দেখা যায় বেশ কিছু মানুষ বাসের ছাদে ওঠে। আমিও প্রায়শই ওদের দলেই ভিড়ি। এক্ষেত্রেও তাই করলাম। পাকদন্ডি পথ বেয়ে বেশ কটা ছোট ছোট পাহাড় ডিঙিয়ে ঘন্টা দুয়েক পর এসে পৌছলাম কেওনঝড়। (পরবর্তী অংশ)