গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা ভূ-উষ্ণায়ন

ভূ-উষ্ণায়ন-প্রাক-কথন


গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা ভূ-উষ্ণায়ন পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের কোনও সাম্প্রতিক রোগ নয়, এ হলো রোগের লক্ষণ। রোগ লুকিয়ে আছে বর্তমানে প্রচলিত যান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতির গভীরে। যে উৎপাদন পদ্ধতির কেন্দ্রীয় ভাবনা হলো, মানুষ সর্বশক্তিমান। যে মানুষের গন্ডি আবার ক্রমশ ছোট হতে হতে হাতে গোনা কয়েকটি বহুজাতিক কর্পোরেশনে পর্যবসিত। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে সভ্যতার এই ভাবনা নিয়ে চলা দ্রুততর হয়। তার আগে পর্যন্ত মানুষের প্রকৃতি নির্ভরতা বেশি থাকায় উৎপাদন পদ্ধতির সঙ্গে প্রকৃতির ভূ-জৈব রাসায়ানিক চক্র এবং অদৃশ্য অথচ গোপন গভীর শৃ‍‌ঙ্খলার মিল ছিল। বৈজ্ঞানিক ভাষায় যে উৎপাদনকে বলা যায় সাসটেইনেবল বা দীর্ঘস্থায়ী। চিন্তাবিদ জে ডি বার্নালের মতে প্রকৃতিতে বিবর্তনের পথে মানুষ আসার পর, তার ক্ষেত্রে প্রকৃতির অন্যান্য প্রজাতি সঙ্গে ‘স্ট্রাগল ফর একজিস্টেনশ’ অর্থহীন। অর্থাৎ যদি অন্যান্য প্রজাতির সঙ্গে মানুষ এই লড়াই লড়ে তবে অন্যরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এই সত্য ইতিমধ্যেই প্রমাণিত।

ভূ-উষ্ণায়ন-কারণ


সূর্য থেকে বিকিরিত রশ্মিই পৃথিবীর শক্তির মূল উৎস। এই রস্মি যখন পৃথিবীতে আসে তখন তার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য থাকে কম। কিন্তু যখন পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায় তখন তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যায় বেড়ে। এই বেশী দৈর্ঘ্যের তরঙ্গ বায়ুমন্ডল ভেদ করে ফিরে যেতে পারেনা, এদের শোষণ করে নেয় বায়ুমন্ডলের কিছু গ্যাস। এই গ্যাসগুলি হলো হাইড্রোফ্লুরো-কার্বন, ক্লোরোফ্লুরো-কার্বন, পারফ্লুরো-কার্বন, নাইট্রোজেন অক্সাইড, মিথেন,কার্বন-ডাই-অক্সাইড, সালফার হেক্সাফ্লোরাইড, এছাড়াও আরো কিছু গ্যাস এই গ্যাসগুলিকে বলা হয় গ্রিনহাউস গ্যাস। গ্রিনহাউসের মতোই সূর্য্যের তাপ এই সমস্ত প্রক্রিয়ায় ভূ-পৃষ্ঠেই আটকা থাকছে। তবে পৃথিবীর ক্ষেত্রে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাড়ছে মূলত পেট্রোল, ডিজেল, কয়লা সহ জীবাশ্ম জ্বালানির দহনের ফলে। এছাড়াও অন্যান্য কারন রয়েছে। অরন্য হ্রাস, বর্জ নিষ্কাশন ও প্রক্রিয়াকরনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন না করা, শক্তি সংরক্ষণের উদ্যোগের অভাব তারই কিছু উদাহরণ।
শিল্প বিপ্লবের আগে পর্যন্ত মানুষের কাজকর্মের ফলে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন খুবই কম ছিল। কিন্তু শিল্প বিপ্লবের পরে জীবাশ্ম জ্বালানির দহন, প্রচলিত কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন, বনক্ষয়, শিল্প কারখানার প্রসার, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারনে বর্জ্য পদার্থের পরিমান বৃদ্ধি ইত্যাদি না না কারনে বায়ুমন্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের মধ্যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড-৫৪%, ক্লোরোফ্লুরো-কার্বন-২১%, মিথেন-১২%, ওজোন-৭% এবং নাট্রোজেন অক্সাইড-৬%শতাংশ উষ্ণায়ন ঘটাচ্ছে। (পরের অংশ পরে লিখছি)

Advertisements

2 Responses to গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা ভূ-উষ্ণায়ন

  1. তাপস বলেছেন:

    কোনদিন টাইপিংটা শিখলাম না। এটাই একসঙ্গে না লেখার কারন। একসঙ্গে অনেক্ষন টাইপ করলে মাথা ঝিমঝিম করে।

  2. তারা বলেছেন:

    এক সঙ্গে পুরোটা লিখলে ভাল হত। নিউ অর্ডার,ভূ-উষ্ণায়ন তারপর লেখ।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: