দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন (Sustainable Development)

মে 26, 2010


3D সিনেমা জেমস্ ক্যামেরণের ‘AVATER’। এই ছবিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্যান্ডোরা নামের একটি গ্রহ আক্রমন করে, উদ্দেশ্য সেই গ্রহের আকরিক সম্পদ হাতানো। প্যান্ডোরার অধিবাসী, ন্যাভিরা আবার প্রকৃতি ও পশুপাখির ভাষা বোঝে, তারা বিশ্বাস করে সমস্ত সপ্রাণ বস্তুর মধ্যে ক্রিয়াশীল এক নেটওয়ার্কের ওপর– সহজ কথায় যা হল ‘বন্ডিং’। এই ‘বন্ডিং’ এর বলে কীভাবে ন্যাভিরা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে প্যান্ডোরা ছাড়া করে তাই নিয়েই ছবির অসাধারণ সব দৃশ্যকল্পনা। ‘অবতার’ এর বিবেকদংশিত পরিচালক বলতে চেয়েছেন, প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি সম্ভ্রম দেখালে তবেই তারা মানুষকে তাদের সম্পদের ভাগীদার করবে, নচেৎ ঠিক প্যান্ডোরার মাটি থেকে আমেরিকাকে বিতারণের মতোই এই সভ্যতাকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে বিলীনতার গর্ভে। (পরবর্তী অংশ)


শুধু একটু ছোঁয়া

মে 20, 2010


যুগ যুগ ধরে একজন সফল পুরুষের পেছনে এক প্রেরণাদায়ী নারীর গাথা আমরা শুনে আসছি। পুরুষদের সমস্ত দুঃসাহসিক-ঝুকিঁপূর্ন কর্মকান্ডের পেছনে এক নারীর উপস্থিতি মহাকাব্যে, গল্পে-গাথায়, কাহিনি-আখ্যানে আমরা শুনে আসছি। ‘রামায়ন’ মহাকাব্যে সীতার সোনার হরিণের বায়না মেটাতে রামচন্দ্র কি কান্ডটাই না করলেন আমরা জানি। বা ‘মহাভারত’ মহাকাব্যে দ্রৌপদীর প্রেরণায় কি ঝুকিঁপূর্ন অসম যুদ্ধে পান্ডবেরা জড়ালেন তা কে না জানে। অথবা হোমারের ‘ওডিসি’ মহাকাব্যের কেন্দ্রেও তো সেই একজন নারী। বাজারের চলতি সিনেমাগুলোতে নায়িকার একটু ছোঁয়ায় নায়ক খালি হাতে একশ গুন্ডাকে পিটিয়ে ঠান্ডা করে দিচ্ছে এতো আমরা হামেশাই দেখছি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে একজন নারীর প্রেরণায় একজন পুরুষ নিজেকে অতিক্রম করে যেতে পারে বা করতে উদ্যোত হয়। (পরবর্তী অংশ)


সম্মানের জন্য হত্যা (Honour Killing)

মে 14, 2010


সম্প্রতি বাইশ বছরের তরুনী সাংবাদিক নিরুপমা পাঠকের হত্যার খবর আমাদের আলোরিত করেছে।ঝাড়খন্ডের বাসিন্দা নিরুপমা দিল্লিতে মাস কমিউনিকেশন এর পাঠ শেষ করে দিল্লিরই একটা সংবাদপত্রে চাকরি করছিলেন। কলেজে পড়ার সময়েই পরিচয় হয় প্রিয়ভাংশু রঞ্জনের সঙ্গে, পরে ঘনিষ্ঠতা। কিন্তু এই ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারেনি নিরুপমার পরিবার, কারন প্রিয়ভাংশু অপেক্ষাকৃত নীচু জাত। সেই কারনে, তথাকথিত সম্মান রক্ষার জন্য নিরুপমাকে হত্যা করে তার পরিবার। মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে নিরুপমার মা শুভা পাঠক এখন হাজতে।
(সম্প্রতি ‘মনন মন’ ও ‘তুসিনের’ ব্লগে Mothers’ Day বা মাতৃ দিবস উপলক্ষে সুন্দর দু’টো লেখা পড়লাম। ওরা ওদের মায়ের কথা লিখেছে। এও এক ‘মা’) নিরুপমা রাজধানীর সংবাদপত্রকর্মী ছিল। তার মৃত্যুর পর সহকর্মীরা যেভাবে সক্রিয় প্রতিবাদে নামে, মিছিল করে, তাতে করে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু ভারতবর্ষের, বিষেশতঃ উত্তর ভারতের আনাচে কানাচে যে নিরুপমারা প্রতিনিয়ত এই কুসংস্কারের বলি হচ্ছে তাদের খবর আমাদের কাছে পৌছয় না, অপরাধীদের শাস্তি দুরস্ত।

প্রাচীন মহাকাব্যে আমরা দেখেছি রামচন্দ্র সীতাকে লঙ্কা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার পরে তার সূচীতা বা সতীত্ব প্রমানে প্রকাশ্য রাজসভায় অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছিল। অগ্নিপ্রীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ার পরে সীতা আর বেঁচে থাকতে চান না, পাতালে প্রবেশ করেন। ধরণী দু’ভাগ হয়ে সীতা কে আশ্রয় দেয়। মহাকাব্যে যতই অগ্নিপরীক্ষা-পাতাল প্রবেশ বলে আড়াল করার চেষ্টা করা হোক না কেন সীতাকে যে রাজপরিবারের সম্মানের জন্য পুড়িয়ে মারা হয়েছিল সে বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। (পরবর্তী অংশ)


চিরসখা, ছেড়ো না মোরে ছেড়ো না

মে 9, 2010


চিরসখা, ছেড়ো না মোরে ছেড়ো না।
সংসারগহনে নির্ভয়নির্ভর, নির্জনসজনে সঙ্গে রহো।
অধনের হও ধন, অনাথের নাথ হও হে, অবলের বল।
জরাভারাতুরে নবীন করো ওহে সুধাসাগর।।


হে ঠাকুর, প্রানের ঠাকুর, তোমার আলোয় আমরা পথ দেখি। তোমাতে আমরা পাই জীবনের চলার পথের দিশা। আমাদের সমস্ত অভিব্যাক্তি তোমার কথা ধার করেই জানাই। প্রার্থনা করি যেন তোমাতে অবিচল থাকতে পারি সর্বক্ষন।
(তোমার এই ১৫০তম জন্মদিনে তোমাকে নিয়ে একটা প্রবন্ধ লিখতে আর রুচি হচ্ছে না। তোমারই একটা প্রবন্ধের অংশ এখানে তুলে দিলাম।)


অনেকেই বলেন বাঙালিরা ভাবের লোক, কাজের লোক নহে। এইজন্য তাঁহারা বাঙালিদিগকে পরামর্শ দেন ‘Practical হও’ । ইংরাজি শব্দটাই ব্যবহার করিলাম। কারণ, ঐ শব্দটাই চলিত। শব্দটা শুনিলেই সকলে বলিবেন, হ্যাঁ হ্যাঁ, বটে, এই কথাটাই বলা হইয়া থাকে বটে। আমি তাহার বাংলা অনুবাদ করিতে গিয়া অনর্থক দায়িক হইতে যাইব কেন। (পরবর্তী অংশ)


আজ ধ্বজাপূজা

মে 1, 2010

(লাল রঙের অংশ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ থেকে উদ্ধৃত)

ফাগুলালঃ আমার মদ কোথায় লুকিয়েছ চন্দ্রা, বের করো।
চন্দ্রাঃ ওকি কথা। সকাল থেকেই মদ?
ফাগুলালঃ আজ ছুটির দিন। কাল ওদের মারণচন্ডীর ব্রত গেছে। আজ ধ্বজাপূজা,সেইসঙ্গে অস্ত্রপূজা।
চন্দ্রাঃ বল কী। ওরা কি ঠাকুরদেবতা মানে।
ফাগুলালঃ দেখ নি ওদের মদের ভাঁড়ার, অস্ত্রশালা আর মন্দির একেবারে গায়ে গায়ে?
চন্দ্রাঃ তা ছুটি পেয়েছ বলেই মদ? গাঁয়ে থাকতে পার্বণের ছুটিতে তো-
ফাগুলালঃ বনের মধ্যে পাখি ছুটি পেলে উড়তে পায়, খাঁচার মধ্যে তাকে ছুটি দিলে মাথা ঠুকে মরে। যক্ষপুরে কাজের চেয়ে ছুটি বিষম বালাই।
চন্দ্রাঃ কাজ ছেড়ে দাও-না, চলো-না ঘরে ফিরে।
ফাগুলালঃ ঘরের রাস্তা বন্ধ, জান না বুঝি?
চন্দ্রাঃ আমাদের ঘর নিয়ে ওদের কোনো মুনফা নেই।


আজ ছুটির দিন। আজ ধ্বজাপূজা। না যক্ষপুরীর রাজার বা তার সরদারদের নয়, ফাগুলালদের। নন্দিনীর গলার মালার রক্তকরবীর রঙএ রাঙ্গানো। না এখন রাজা আর জালের আড়ালে থাকে না, থাকে অন্তর্জালের আড়ালে। সেখান থেকেই কাজের নির্দেশ আসে, আসে কর্মচ্যুতির ফরমানও। ১২ ঘন্টা কাজের পর যখন খোলা আকাশের নীচে এরা বেরিয়ে আসে তখন আর আকাশের দিকে চাইবার শক্তি বা ইচ্ছেটাই আর অবশিষ্ট থাকে না। আরো আরোও টাকার নেশাও তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। আর এখন গোঁসাইয়ের কাজ করছে টি. ভি.। (পরবর্তী অংশ)


গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা ভূ-উষ্ণায়ন (২)

মে 1, 2010

ভূ-উষ্ণায়ন – ফলাফল


ভূ-উষ্ণায়নের ফলে ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। বিগত ৮০০০ বছর ধরে এই তাপমাত্রা প্রায় স্থির ছিল। কিন্তু গত ১০০ বছরের হিসেবে দেখা যাচ্ছে এই তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১০০ বছর আগের তুলনায় ০.৩ ডিগ্রি থেকে ০.৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বেশী। হিমবাহ গলবে দ্রুত হারে, সমুদ্রের জলতল সেই সূত্রে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়লে বাষ্পীভবনের মাত্রাও বাড়বে। ভৌগলিক নিয়মে সব জলীয় বাষ্প গিয়ে জমা হবে সমুদ্রের ওপর। ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত এর সম্ভাবনাও বাড়বে। ডুবে যেতে পারে উপকুলবর্তী অঞ্চল। ভারত, বাংলাদেশের সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চল, মালদ্বীপ এই জায়গাগুলো জলের তলায় তলিয়ে যাবে। তাপমাত্রার বর্তমান বৃদ্ধিতেই ভয়ঙ্কর পরিণতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ফলে খরা-বন্যা, প্রবল বজ্রপাত, ঝড়-ঝঞ্ঝা, প্রলয়ঙ্কর সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি নতুন নতুন মারক রোগের উৎপত্তি, কলেরা-ডেঙ্গু-প্লেগ এই সব রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি, শস্যহানি, দেশে দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এভাবে চললে তাপমাত্রা বাড়তে পারে ২.৫ থেকে ৫ ডিগ্রি সেন্ত্রিগ্রেড পর্যন্ত। ফলে কি কি ধরনের বিপদ ঘটতে পারে– সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি। এই উচ্চতা ২১০০ সালের মধ্যে ৯ থেকে ৮৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রতীরবর্তী নিচু জায়গাগুলি জলমগ্ন হবে। ভারত, বাংলাদেশের সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চল, মালদ্বীপ এই জায়গাগুলো জলের তলায় তলিয়ে যাবে। ভারতের ক্ষেত্রে অনুমান ৫৭০০ বর্গ কিলোমিটার জমি এবং ৪২০০ কিলোমিটার রাস্তা জলের নিচে তলিয়ে যাবে। (পরবর্তী অংশ)