শুধু একটু ছোঁয়া


যুগ যুগ ধরে একজন সফল পুরুষের পেছনে এক প্রেরণাদায়ী নারীর গাথা আমরা শুনে আসছি। পুরুষদের সমস্ত দুঃসাহসিক-ঝুকিঁপূর্ন কর্মকান্ডের পেছনে এক নারীর উপস্থিতি মহাকাব্যে, গল্পে-গাথায়, কাহিনি-আখ্যানে আমরা শুনে আসছি। ‘রামায়ন’ মহাকাব্যে সীতার সোনার হরিণের বায়না মেটাতে রামচন্দ্র কি কান্ডটাই না করলেন আমরা জানি। বা ‘মহাভারত’ মহাকাব্যে দ্রৌপদীর প্রেরণায় কি ঝুকিঁপূর্ন অসম যুদ্ধে পান্ডবেরা জড়ালেন তা কে না জানে। অথবা হোমারের ‘ওডিসি’ মহাকাব্যের কেন্দ্রেও তো সেই একজন নারী। বাজারের চলতি সিনেমাগুলোতে নায়িকার একটু ছোঁয়ায় নায়ক খালি হাতে একশ গুন্ডাকে পিটিয়ে ঠান্ডা করে দিচ্ছে এতো আমরা হামেশাই দেখছি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে একজন নারীর প্রেরণায় একজন পুরুষ নিজেকে অতিক্রম করে যেতে পারে বা করতে উদ্যোত হয়।

কিন্তু প্রেরণাও নয় শুধুমাত্র একটু মিষ্টি হাতের ছোঁওয়াই যে পুরুষদের উদ্বুদ্ধ করতে যথেষ্ট, তাই প্রমাণ করেছেন আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক যোনাথন লেভভ ও কানাডার আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জেনিফার এগ্রো।

এরা বলছেন, নারীর সামান্য স্পর্শে একজন পুরুষ, নিজের অজান্তেই, অনেক ঝুঁকি নিতে এগিয়ে যান। ৬৭ জন লোকের ওপর এক স্টাডিতে দেখা গেছে সামান্য পিঠের ওপর আদরের চাপর বা হাত কাঁধের ওপর নারীর হাতের ছোঁয়া পাওয়া পুরুষরা নিশ্চিত টাকা হে পাওয়ার বদলে ঝুকিঁপূর্ন জুয়ায় জড়িয়েছেন।

আর একটি স্টাডি করা হয়েছিল ১০৫ জনের ওপর। এক্ষেত্রেও টাকা বিনিয়োগের দুটো বিকল্প দেওয়া হয়েছিল প্রত্যেককে, এক বার্ষিক ৪% হারে নিশ্চিত বন্ডে বিনিয়োগ, দুই সম্পূর্ন অনিশ্চিত একটা ঝুকিঁপূর্ন একটা বিনিয়োগ, তাতেও দেখা গেছে নারীর স্পর্শ পাওয়া পুরুষরা ঝুকিঁপূর্ন বিনিয়োগই বেছে নিয়েছে।

গবেষকদ্বয় বলেছেন এটা মানুষের চিরাচরিত সম্পর্কের বন্ধনের অবচেতন একটা প্রতিক্রিয়া। নারীর স্পর্শে পুরুষের মনে মায়ের স্নেহমাখা অভয়ের স্পর্শের অনুভুতি হয়। মায়ের নিরাপদ আশ্রয়ে, নিজের অজান্তেই, নিশ্চিন্তে ঝুকিঁ নিতে প্ররোচিত হয়।

Advertisements

6 Responses to শুধু একটু ছোঁয়া

  1. Mamunur Rasid বলেছেন:

    Hi,
    This is such a great resource that you are providing and you give it away for free. I enjoy seeing websites that understand the value of providing a prime resource for free. I truly loved reading your post.
    Thanks!

  2. শুদ্ধ বলেছেন:

    This kind of researches can be very harmfull indeed!These are social empirical data which can be true for a little section but not for all.Yet this seems to be the trend in social research sectors,because of biased funding system by often religious bodies.Just think,on this very ground one can easily denounce woman as the perpetrator of all the wrong doings.Even they can be termed as the gateway to hell!
    Sorry,here I am unable to type in Bengali.I don’t know why,my AVRO is not working here properly.

    • তাপস বলেছেন:

      ঠিকই বলেছেন। ১০০-১৫০ জনের ওপর সার্ভে করে কোনোই সিদ্ধান্তে আসা ঠিক নয়। আমি এটাকে একটা funny news হিসেবেই দেখেছি। মনোবিঞ্জান, সমাজবিঞ্জান এবং মেডিক্যাল সাইন্সের ওপর গবেষণাগুলো এতো পরস্পরবিরোধী যে সবগুলো একত্রিত করলে একটা হাস্যকর ব্যাপার হয়। আসলে গবেষনার টাকা আছে, একটা কিছু করতে হবে তাই এই সব উদ্ভট বিষয়ে করা- আমি এভাবেই ভেবেছি। তবে ভবিষ্যতে এরকম লেখার সময় আপনার কথা মনে রাখব। ধন্যবাদ।

  3. ইরতেজা বলেছেন:

    উপস্‌, বলেন কি?

  4. মোশারফ বলেছেন:

    তোমার লেখা পড়লে মেয়েরা কারে উঠে বসে থাকবে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: