অবশেষে বৃষ্টি নামলো


গত প্রায় পনের দিন হবে বৃষ্টির দেখা নেই। তাপমাত্রা ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে কি হবে আপেক্ষিক আদ্রতা ৯০ শতাংশের ওপরে। ফলে হাঁসফাঁস অবস্থা। অস্বস্তি সূচক যত চড়ছে পথে-ঘাটে, হাটে-বাজারে, অফিস-কাছারিতে মানুষের মেজাজও পাল্লা দিয়ে চড়ছে। ট্রেনে, বাসে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়, অফিসে সামান্য কারনেই মেজাজ গরম। তবে একটাই যা শান্তি যে রাজনীতির দাদা-দিদিদের মেজাজ এখন ঠান্ডাই আছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাষ-সেই রোজই এক কথা- “দুএক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি কোন কোন জায়গায় বজ্রবিদ্যুতসহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে”। আবহাওয়া দপ্তরের এই পূর্বাভাষ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত্য চালিয়ে যাবে। সুন্দর বের করেছে ফর্মাটা, পূর্বাভাষ মিলবেই মিলবে। যদিও প্রচলিত এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মত হল আবহাওয়া অফিস বৃষ্টির পূর্বাভাষ দিলে নিশ্চিন্তে ছাতা না নিয়েই বেড়নো যায়। আবার এরকমও অনেকে বলে ”যাও বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল, আবহাওয়া অফিস যখন বলেছে আর হবে না। কিন্তু আমরা যে গরমে হাফ-বয়েল্ড কি করা যায়? আমারও কিছু ভালো লাগছে না। কিছুই লিখতে ইচ্ছে করছে না, অলস বসে বসে আকাশ পাতাল ভাবছি। আচ্ছা বৃষ্টির জন্য আগেকার মানুষ কি করত?

শুনেছি ব্যাঙের বিয়ে দিলে নাকি বৃষ্টি হয়? বাংলায় গ্রামীন লোকাচার আছে অনাবৃষ্টি হলে দু;টো কোলা ব্যাঙ ধরে ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়া হত। আর একটি লোকাচার- একটি কুমারী মেয়েকে নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে অনেকে মিলে তার গায়ে জল ছেঁটাবে-তাহলেই বৃষ্টি নামবে। যদিও এই প্রথাটার মধ্যে ফার্টিলিটি কাল্ট গন্ধ পাওয়া যায়। ভুমি বা মাটি হল নারী আর বৃষ্টি হল পুরুষ। অনাবৃষ্টিতে রুক্ষ মাটিকে জলে সিক্ত করে উর্বর করা। আবার অনেক জায়গায় ব্যাঙকে ধরে তাকে লোকাচার অনুযায়ী পুজো টুজো করে সিঁদুর মাখিয়ে ধান ক্ষেতে বলি দিয়ে সেই রক্ত ক্ষেতের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কিছু কিছু নৃশংশ প্রথা যেমন বালিকা বলি দেওয়া এসবও প্রাচীনকালে ঘটত। অতীতে পৃথিবীর সব দেশেই স্থান কাল ভেদে বৃষ্টির জন্য নানা রকম আচার-অনুষ্ঠানের প্রথা ছিল। বাংলারই এক অংশে যেমন গ্রামের কোন নববধূ, যার এখনো কোন সন্তান হয়নি, তাকে অমাবশ্যার রাত্রিতে নববস্ত্রে সারাদিন উপোশের পর গ্রামের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা শুকনো নদীর বালিতে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকতে হত সারারাত। তাতেই নাকি নদীর বুক জলে ভরে যেত।

এ ধরনের অনেক লোকাচার সারা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে আছে- বৃষ্টির প্রতীক্ষায় বসে বসে সে সবই ভেবে চলেছি- এমন সময় হঠাৎ আকাশের আলো কমে আসতে লাগল, আকাশে ব্যস্তসমস্ত কাল মেঘের দল দক্ষিণ থেকে উত্তরের দিকে উড়ে যেতে লাগল- কিছুক্ষনের মধ্যেই উঠল ঝড়- অবশেষে বৃষ্টি নামলো।

Advertisements

6 Responses to অবশেষে বৃষ্টি নামলো

  1. ণীলা বলেছেন:

    ভালো লাগলো।

  2. Rony Parvej বলেছেন:

    যাক তবুও তো নামলো শেষ পর্যন্ত 😀 😀

  3. sanjoy বলেছেন:

    ভেবে ছিলে বলেই বৃষ্টি নামলো।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: