মাধুকরী-২

জুলাই 22, 2010


নিত্যদিন কাজের অকাজের নানা কথায় যে কথামালা আমরা গেঁথে চলেছি অবরত সেই কথায় কথায় কথার পাহার জমে ওঠে। প্রবহমান কথার স্রোতে কত পুরানো কথাই হারিয়ে যায় নতুন কথার ভিড়ে। যে পুরানো কথাটা এক সময় মহার্ঘ মনে হত আজ তা স্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে মূল্যহীন হয়ে। যে কথা শোনার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতাম একদিন আজ হয়ত তা গুরুত্বহীন। প্রবহমান সময়ের স্রোতে অনেক ডন্ড-পল অতিক্রম করে এসেছি, পেছন ফিরে চাইবার অবকাশ হয়নি, কিন্তু তারা আমায় একেবারে পরিত্যাগ করে নি, সমস্তটাই আমার বয়েসের অংকে যোগ হয়েছে। আজ মেঘলা আকাশের গুমোট আবহাওয়ায় আর ততধিক গুমোট সামাজিক আবহে কখনো সেই পুরোনো দিনের কোন বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেলে স্মৃতি পেছনটানে। (পরবর্তী অংশ)


বিশ্ব-উৎসবের শেষে

জুলাই 15, 2010


শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপ ফুটবল। এক মাস ব্যপি উৎসবের সমাপ্তি। রাত জেগে খেলা দেখা, পরদিন ঢুলুঢুলু চোখে অফিস যাওয়া। ফাইনাল খেলার দিন ভাবছি যেন ৯০ মিনিটেই খেলার নিষ্পত্তি হয়, তাহলে অন্তত পৌনে দু’টোয় শুতে পারব। কিন্তু না একস্ট্রা টাইমে গেলই- তখন ভাবছি ট্রাই ব্রেকারে যেন না যায়। যাক ট্রাই ব্রেকারে আর যেতে হয়নি। (পরবর্তী অংশ)


মাধুকরী

জুলাই 9, 2010

‘প্রস্তাবনা’

আমি এক শ্রমণ, এক অন্তহীন পথের পথিক, মাধুকরী করতে করতে আমার এই পথ চলা। কত নদী-প্রান্তর পেরিয়ে, কত গ্রাম-কত জনপদের মধ্যে দিয়ে, মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি- আজানের সুর শুনতে শুনতে পেরিয়ে এসেছি কতটা পথ। তবুও এগিয়ে চলেছি। কিন্তু কোথায় চলেছি? কি আছে পথের শেষে? জানি না -তবুও থেমে যাওয়ার জো যে নেই। এই পথ চলতে চলতেই কত মানুষের সঙ্গে দেখা, ক্ষণিকের আলাপ, ঘনিষ্টতা- তারপর আবার চলা। এই পথে কত মানুষ, কেউ বা আমায় ফেলে এগিয়ে চলে গেল, কেউ বা পড়ে রইল পেছনে, কেউ গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছে, কেউ বা একা, কেউ বা সঙ্গিদের সঙ্গে। এখন সন্ধ্যে – সবাই পান্থশালার দ্বারে। (পরবর্তী অংশ)


বিচারের বাণী………

জুলাই 2, 2010


পৃথিবীর ইতিহাসে বৃহত্তম গ্যাস দুর্ঘটনায় আদালতের রায় প্রকাশিত হওয়ার পরে সারা দেশ জুড়ে উঠেছে প্রবল সমালোচনার ঝড়। শুধু দেশেই নয়, বিদেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রেও এই খবর গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছে এবং সমালোচিত হয়েছে এই রায়। স্বাভাবিকভাবে সেই অবধারিত প্রশ্নটাই উঠে এসেছে– ‘ভারতের বিচার ব্যবস্থা বিত্তশালী ও প্রভাবশালীদের পক্ষে’ বা ‘বিচারও ক্রয়যোগ্য পণ্য’। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এ. এম. আহমেদি কথাই ধরা যাক– ১৯৯৪ সালে

( # ধুমপানের বিপদ সম্পর্কে অবহিত না করার জন্য তামাক কোম্পানি ‘ফিলিপ্স
মরিস’ কে জরিমানা দিতে হয়েছিল ৩ বিলিয়ন ডলার।
# এ্যসবেসটস কোম্পানি ‘জন্স মারভিল’ কে জরিমানা দিতে হয়েছিল ৫০০ মিলিয়ন
ডলার।
# ১৯৮৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা উপকুলে ‘এক্সন ভ্যালডেজ’ দুর্ঘটনা– এই
তেল দুর্ঘটনায় ক্ষতি হয়েছিল প্রকৃতির-উদ্ভিদ, জীবজন্তুর- ক্ষতিপূরণ ধার্য হয়েছিল ১০০ কোটি ডলার।
# ভুপাল গ্যাস দূর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ মাত্র ৪৭০ মিলিয়ন ডলার। )

N.G.O. গুলোর প্রবল বাধা উপেক্ষা করে ভুপাল কোর্টের রায় বাতিল করে ইউনিয়ন কার্বাইড কোম্পানির শেয়ার বিক্রির অনুমতি দেয় সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল বেঞ্চ যার মাথায় ছিলেন ব্বিচারপতি আহমেদি। দু’বছর বাদে এই আহমেদিই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ লঘু করে দেয়। (আহমেদি সাহেব চাকরি থেকে অবসরের পর মূলত দুর্ঘটনার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসার জন্য গঠিত ‘ভুপাল মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র’ এর ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান হন। উনি সিদ্ধান্ত নেন যে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা ওই হাসপাতালে বিনা পয়সায় চিকিৎসা পাবে। বিচারপতি আহমেদি নিজেই ওই হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়েছেন)। (পরবর্তী অংশ)