অঞ্জাতবাস

নাঃ, অঞ্জাতবাসে আর থাকা গেল না।
পান্ডবদের কথা মনে আছেতো- শর্ত ছিল অঞ্জাতবাসে ধরা পরে গেলে আবার বা..রো বছর বনবাস।
কিছু দিন নিজেকে নিজের কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছিল। আমার সব কিছু আমাতেই আছে তো। আয়নার সামনে দাঁড়ালাম, না ওপর ওপর সব ঠিকই আছে। মুখ, চোখ, নাক, কান সবই ঠিকই মনে হচ্ছে। ঠোঁটের কোণের শূন্যকলস ঢাকা দেওয়া সবজান্তা হাসিটিও ঠিক ঠাক। তবুও সন্দেহটা যাচ্ছিল না বুক পকেটের নীচের যন্ত্রটা যেন মনে হচ্ছে গোলমাল করছে। পুরোনো ভাইরাল রোগটাই ফিরে এলো না কি? হু.. মনে হচ্ছে তাই। ভেতর থেকে ভাইরাসটা বলে চলেছে, ”কি করছিস ভেবে দেখেছিস। ভাবছিসতো ফাটিয়ে দিচ্ছিস আসলে পুরোটাই ফোক্কা-ভষ্মে ঘি”। ঝাঁজিয়ে বললাম, “কেন একথা বলছিস কেন কিছুই কি করছি না।” ও বলল, “তুই বলছিস, কিন্তু দর্শকরা? স্টেজে উঠলে দু’হাজার ওয়াটের স্পটগুলো তোর মুখেই পড়বে। ফোকাসের জোড়ালো আলোয় শুধু সহ অভিনেতাদের মুখই শুধু দেখা যায় দর্শকদের মুখ দেখা যায় না, ঝাপসা কিছু অবয়ব, এই ব্যাপারটাই ভুলে মেরে দিয়েছিস?” এবার আমি ঘাবরে গেলাম। আর ভাইরাসটাও আমার ওপর চেপে বসলো। আর ঠিক সেই মূহুর্তেই মনে পরে গেলো পিনাকিদার এককালে লেখা এই লাইন কটা-

“এখনো হড়িণপায়ে চলে যেতে পারি,
পরবাসে আমূল প্রোথিত নই জেনে-
যে কোন ছুঁতোয় আমি
সবখানে চলে যেতে পারি।”

এক সুদীর্ঘ আড্ডার বিরতিতে পিনাকিদা লিখে ফেলেছিল কবিতাটা। পরে একটা পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়, পুরোটা স্মৃতিতে নেই।
এই লাইনকটা মনে হতেই বেশ উৎসাহ পেলাম। প্রথমেই মোবাইল ফোনের সিমকার্ডটা দিলাম পালটিয়ে। এক নিমেষেই পৃথিবীটা বেশ ছোট হয়ে গেল, আর আমি ঢুকে গেলাম শামুকের খোলে। নিভৃতে নিশ্চিন্তে নিজের প্রতিটা অঙ্গ-প্রতঙ্গ ব্যবচ্ছেদ করলাম তারপর পুরো ডিস্ক স্ক্যানে দিয়ে শীতঘুম, ব্লগ থেকেও ছুটি। কিন্তু বুঝতে পারিনি যে পরবাসে আমূল না হলেও প্রোথিত হয়ে গেছি বেশ। না পিনাকিদা কোন ছুঁতোতেই আমি আর কোনখানেই চলে যেতে পারি না। আফিসেতো যেতেই হয়, অফিসের ফোনেই আমায় ধরে ফেললো সবাই। ব্যাস আর কি অঞ্জাতবাসের ইতি।
ভাই আমিনুলের কাছে অপরাধের শেষ নেই। ও ঈদের শুভেচ্ছা জানালো আর আমি এমন পাষন্ড যে ব্লগ খুলে সেটা দেখিইনি, ফলে ওকে শুভেচ্ছা জানানোও হয়নি।

Advertisements

18 Responses to অঞ্জাতবাস

  1. নীলা বলেছেন:

    “এখনো হড়িণপায়ে চলে যেতে পারি,
    পরবাসে আমূল প্রোথিত নই জেনে-
    যে কোন ছুঁতোয় আমি
    সবখানে চলে যেতে পারি।

    অজ্ঞাতবাস ভালো লাগলো।

  2. sanjoy বলেছেন:

    অঞ্জাতবাসে পান্ডবদের ­noy kourabderi pathate hobe.

  3. মোশারফ বলেছেন:

    অফিসের ফোন নং যখন দেওয়া ছিল সবাইকে তখন আর মোবাইলের সিম পালটে কি লাভ?
    যাই হোক যেখন থেকেই ছুটি নাও, ব্লগ থেকে ছুটি নিও না।

  4. Sohini বলেছেন:

    Self critisism is a good habit to be perfect. May publish the result of your scan. It may help us to know you better and help us too. Thank you for return to blog again. Write regularly.

  5. তারা বলেছেন:

    মৌনতা ভাঙ্গলো তাহলে। প্রতিটি কাজে নিজের কাছে কৈফিয়ত দেওয়া ভাল। তবে সব সময় নিজেকে স্ক্যান করলে নিজের মধ্যে গুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। সেটা আবার ভাল কথা না।
    শুভেচ্ছা রইলো।

  6. নিবিড় বলেছেন:

    অজ্ঞাতবাস ভাল তার থেকে ভাল চেনা পৃথিবী। কেমন আছেন তাপস দা?

  7. mahmud faisal বলেছেন:

    এইসব অজ্ঞানতবাস আইডিয়ার উপর মহাখাপ্পা আমি (এইটা শুধু আমার জন্য) 😛

  8. Tanmay বলেছেন:

    শামুক’এর খোলস ভেঙ্গে বেরবার জনন্যে শুভেচ্ছা। ভাল লাগল আপনার ব্লগটি!

  9. তাপসদা অনেক দিন পর আপনার নতুন লেখা দেখে খুব খুশি হয়ে ছিলাম। এখন কেমন যেন বিষণ্ণবোধের ছায়া পেলাম। কেমন আছেন আপনি? অনেক অনেক ভালো থাকবেন। অজ্ঞাতবাসের চিরন্তন ইতি ঘটুক 🙂

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: