কিয়োটো চুক্তি-এক বাতিল কাগজ?


মেক্সিকোর কানকুন সমুদ্রসৈকতের বিলাসবহুল রিসর্টে দু’সপ্তাহ ধরে চলা চাপান উতর শেষে সর্ব্বসম্মত ভোট ছাড়াই শেষ হল বৈঠক। ঠিক গত বছর কোপেনহেগেনে যা ঘটেছিল ঠিক যেন সেই চিত্রনাট্যেরই পুনরাবৃত্তি। কিয়োটো পরিবেশ চুক্তি যে এই ভাবে এক বছর থেকে পরের বছরের পরিবেশ শীর্ষ বৈঠকে চালান হতে হতে বাতিল কাগজের ঝুড়িতে স্থান পাবে, সে নিয়ে প্রায় আর কোনও সন্দেহ নেই। ২০১০ -এ কিয়োটো প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। হয়নি তার মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে কোনও চুক্তি। স্বভাবতই উন্নত দেশগুলো খুশি। শেষ পর্যন্ত বেশ সফলভাবেই তারা প্রায় ভেস্তে দিল কিয়োটো চুক্তিকে।

কি ছিল কিয়োটো চুক্তিতে? খুবই সাধারন, সহজবোধ্য কিছু কথা। উন্নত দেশগুলোকে দুষণ ছড়ানো ক্ষতিকর গ্যাসের নির্গমহার ২০২০ সালের মধ্যে ১৯৯০ সালের তুলনায় ২৫-৪০% কমিয়ে আনতে হবে। আর উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তার জন্য উন্নত দেশগুলো ‘সবুজ জলবায়ু তহবিলে’ প্রতি বছর দশ হাজার কোটি ডলার দেবে। সেটাও শুরু হবে ২০২০ সাল থেকে।

আমেরিকা এই কিয়োটো চুক্তিতে সই পর্যন্ত করেনি। এই চুক্তির প্রথম খসড়া তৈরীর সময় থেকেই তারা নানা ভাবে বাগড়া দিয়ে আসছিল। কারণ গাড়ির ধোঁয়া নির্গমনের হার কমানোর দুটো রাস্তা হতে পারে। এক, গাড়ি কম চালানো, মানে তেলের বিক্রি কমে যাওয়া। অথবা দুই, উন্নততর গাড়ির ইঞ্জিন তৈরী করা যাতে দূষণ কম হয়। কিন্তু তার মানে গবেষণায় এবং গাড়ি তৈরীতে বাড়তি খরচ, সেই খরচ তুলতে গাড়ির দাম বাড়ানো, মানে গাড়ির বিক্রি কমে যাওয়া, মানে তেলের বিক্রি কমে যাওয়া। কাজেই নানা রকম ওজর আপত্তি তুলেছিল আমেরিকা। এমন কুযুক্তিও শোনা গেছিল যে ‘গ্রীনহাউস গ্যাস’ বলে আদৌ কিছু হয় না, কারণ গ্রীনহাউস এফেক্ট ব্যাপারটাই ভুয়ো। উষ্ণায়ন কি আদৌ ঘটছে? না কি কিছু এন.জি.ও. নিজেদের পকেট ভরাতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির গুরুত্ব যে এই সব কু-যুক্তি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা যায় না সে কথা বুঝেছে উন্নত দেশগুলো। সেই জন্যই এক নতুন পন্থা নিয়েছে উন্নত দেশগুলো। তারা বলছে, দূষণ যেহেতু শুধুমাত্র কতগুলো উন্নত দেশের সমস্যা নয় সারা পৃথিবীরই সমস্যা, সেহেতু সব দেশকেই এর দায়ীত্ব নিতে হবে, কেবল উন্নত দেশগুলো দূষণ নিয়ন্ত্রণের দায় নেবে কেন? অন্যান্য দেশের, বিশেষ করে চিন ও ভারতের মতো উন্নয়ণশীল দেশগুলোকেও দায় নিতে হবে। এই চাপান-উতোরেই গত বছর ব্যর্থ হয়েছিল কোপেনহেগেন সম্মেলন। এবার কানকুন সম্মেলনের আগেই চিন, ভারত ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল যে, বাকি বিশ্বের মুখের দিকে তাকিয়ে তারা অনড় অবস্থান না নিয়ে সমঝোতার রাস্তায় হাঁটতে পারে। কিন্তু দেখা গেল উন্নত দেশগুলো তাদের পুরনো একগুঁইয়েমি ছাড়ছে না যে উন্নয়ণশীল দেশগুলোকেও আগে কিয়োটো প্রটোকলের আওতায় আনতে হবে। আবার ভারত, চিনের মতো দেশগুলোর বক্তব্য, উন্নত দেশগুলো, যারা এত দিন ধরে পৃথিবীকে দূষিত করেছে এবং এখনো করে চলেছে সব চেয়ে বেশী হারে আগে তারা শুরু করে দেখাক তারপর তৃতীয় বিশ্ব কথা ভাবা যাবে।

এই ভাবেই সময় কেনার খেলায় একটু একটু করে গড়িয়ে যাচ্ছে সময়, আর পৃথিবী এগিয়ে চলেছে সর্ব্বনাশের পথে।

Advertisements

8 Responses to কিয়োটো চুক্তি-এক বাতিল কাগজ?

  1. Farid Ahammad বলেছেন:

    বাংলাদেশে http://www.bdtender.com‘ই প্রথম টেণ্ডার নটিফিকেসান সার্ভিস চালু করেছে । আপনি এখন্ আর দশ, পনের, বিশটি পত্রিকা কেনার প্রয়োজন নেই । দেশের সকল পত্রিকার টেণ্ডার/দরপত্র গুলি একত্র করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দিয়েছে তাতে আর আপনাকে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবেনা এবং আপনার আর কষ্ট করে সব গুলি টেণ্ডার/দরপত্র দেখতেও হবে না । শুধু ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে দিলেই আপনার কাঙ্ক্ষিত টেণ্ডার/দরপত্র টি ই- মেইল এলার্টের মাধ্যমে আপানার কাছে পোঁছে যাবে ।
    আজই রেজিস্ট্রেশান করুন ! আপানার মূল্যবান সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচান এবং নিরাপদ থাকুন।

  2. নিবিড় বলেছেন:

    সব জিও-পলিটিক্সের খেলা তাই এখানে প্রতিপক্ষ কে ঘায়েল করার জন্য দাবার চাল দেয়া হয় পৃথিবী বাঁচল না মরল তাতে কার কী আসে যায়। একটু অপেক্ষা করেন দেখবেন ডারবানেও একি কারবার হবে।

  3. sanjoy বলেছেন:

    পরমানু দায়বদ্ধতা বিল e India , কিয়োটো পরিবেশ চুক্তি teপৃথিবী এগিয়ে চলেছে সর্ব্বনাশের পথে. Kadam Kadam barae ja.

  4. তাপসদা বিষয়টিকে একটু ভিন্নভাবে বলতে চাই, আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমার জানামতে এ যাবত পৃথিবীতে পাঁচটি Ice age বা বরফযুগ এসেছে। শেষেরটা প্রায় ১০,হাজার বছর আগে Holocene Period এ।এক্ষেত্রে বলতে পারি পৃথিবীতে আবারো প্ররাকৃতিকভাবে বরফযুগ আসবে। এটাকে যদি একটি চক্র ভাবি,তবে দুইটা যুগ আছে চক্রে বরফ যুগ Glacialperiod এবং দুই বরফ যুগের অন্তর্বতী Interglacial period। এখন সর্বশেষ Interglacial period চলছে, অর্থাৎ বরফ গলে যাচ্ছে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারনে। আবার Interglacial period শেষ হলে সমগ্র পৃথিবী যখন প্রাকৃতিকভাবে জলে নিমজ্জিত হবে, তখন তাপমাত্রা আবার হ্রাস পেতে শুরু করবে। শুরু হবে Glacialperiod বা ষষ্ঠ বরফ যুগ। এটাই পৃথিবীর নিয়তি। প্রকৃতি অনেকগুলো চক্র মেনে চলে। নাইট্রোজেন চক্র, জল চক্র, অক্সিজেন চক্র ইত্যাদী। তদ্রুপ Glaciation Cycle ও একটি প্রকৃতি নিয়ন্ত্রিত চক্র, যা ঘটবেই। এখন যে উষ্ণায়ন হচ্ছে, মেরু বরফ গলে যাচ্ছে, এগুলো পৃথিবীতে আগেও পাঁচবার ঘটেছে। তাহলে কেন এত হৈ চৈ হয় উষ্ণায়ন নিয়ে আমি ঠিক ক্লিয়ার না বিষয়টি নিয়ে 😦

    • তাপস বলেছেন:

      বাঃ একটা নতুন বিষয় মাথায় ঢুকলো। তুমি এই ব্যাপারটা নিয়ে বিষদ একটা লেখ না।
      আর ভিন্ন মত হলেই যারা রেগে যায় আমি তাদের দলে তো নইই, বরং এদের বিরুদ্ধে আমার যেহাদ। বরং আমি সুস্থ বিতর্ক পছন্দ করি, যদিও ব্লগে সে সূযোগ এখনও হয় নি। লেখার অনুরোধটা ভুলো না।

    • নিবিড় বলেছেন:

      আমিন ভাই, ইন্টারেস্টিং লাগল আপনার ব্যাখ্যাটা। তাপসদার মত আমিও এই ব্যাপারে আপনার একটা লেখা চেয়ে গেলাম

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: