অঞ্জাতবাস

ডিসেম্বর 8, 2010

নাঃ, অঞ্জাতবাসে আর থাকা গেল না।
পান্ডবদের কথা মনে আছেতো- শর্ত ছিল অঞ্জাতবাসে ধরা পরে গেলে আবার বা..রো বছর বনবাস।
কিছু দিন নিজেকে নিজের কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছিল। আমার সব কিছু আমাতেই আছে তো। আয়নার সামনে দাঁড়ালাম, না ওপর ওপর সব ঠিকই আছে। মুখ, চোখ, নাক, কান সবই ঠিকই মনে হচ্ছে। ঠোঁটের কোণের শূন্যকলস ঢাকা দেওয়া সবজান্তা হাসিটিও ঠিক ঠাক। তবুও সন্দেহটা যাচ্ছিল না বুক পকেটের নীচের যন্ত্রটা যেন মনে হচ্ছে গোলমাল করছে। পুরোনো ভাইরাল রোগটাই ফিরে এলো না কি? হু.. মনে হচ্ছে তাই। ভেতর থেকে ভাইরাসটা বলে চলেছে, ”কি করছিস ভেবে দেখেছিস। ভাবছিসতো ফাটিয়ে দিচ্ছিস আসলে পুরোটাই ফোক্কা-ভষ্মে ঘি”। ঝাঁজিয়ে বললাম, “কেন একথা বলছিস কেন কিছুই কি করছি না।” ও বলল, “তুই বলছিস, কিন্তু দর্শকরা? স্টেজে উঠলে দু’হাজার ওয়াটের স্পটগুলো তোর মুখেই পড়বে। ফোকাসের জোড়ালো আলোয় শুধু সহ অভিনেতাদের মুখই শুধু দেখা যায় দর্শকদের মুখ দেখা যায় না, ঝাপসা কিছু অবয়ব, এই ব্যাপারটাই ভুলে মেরে দিয়েছিস?” এবার আমি ঘাবরে গেলাম। আর ভাইরাসটাও আমার ওপর চেপে বসলো। আর ঠিক সেই মূহুর্তেই মনে পরে গেলো পিনাকিদার এককালে লেখা এই লাইন কটা- (পরবর্তী অংশ)


মাধুকরী-৩

সেপ্টেম্বর 29, 2010


আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, রোদ্দুরে সোনার রঙ লেগেছে, প্রকৃতিও উৎসবের জন্য সেজেগুজে তৈরী। খুশির ঈদ গেল, দুর্গাপূজোও এলো বলে। দোকানে দোকানে ঝলমলে রঙিন পোষাকের প্রদর্শনী, ভিড় রাস্তা জ্যাম। আমি কেন জানি না এই ভিড়ে কিছুতেই নিজেকে মেলাতে পারি না। আমার অনেক খারাপের এটাও অবশ্যই একটা। ধর্মীয় ব্যাপারে আমার বরাবরই আগ্রহ কম। যদিও দূর্গাপূজো এখন একটা সাস্কৃতিক ইভেন্ট। কত পুজো সংখা বেরবে। কত গানের তৈরী হবে। প্যান্ডেল্গুলোও এক একটা শিল্প।কিন্তু চার পাশটা যেন কেমন যেন বিষিয়ে যাচ্ছে। রুগির আত্মীয়-স্বজন ডাক্তার পেটাচ্ছে, আবার ডাক্তাররা রুগি পেটাচ্ছে। এক ভয়াবহ অরাজক অবস্থা। (পরবর্তী অংশ)


সাবধান–“জিউস”

অগাষ্ট 26, 2010


গ্রীক পুরানে দেবতাদের রাজা সর্বশক্তিমান জিউস। তার নামেই নামকরন ‘জিউস-ভি থ্রী’, ইনিও সর্বশক্তিমান, এর এখনও কোন প্রতিরোধক এখনও পর্যন্ত নেই, ইনি একজন কম্পিউটার ভাইরাস। এর হামলায় সম্প্রতি ব্রিটেনের একটা ব্যাঙ্ক থেকে ৭ লক্ষ পাউন্ড উধাও হয়ে গেছে। পৃথিবীর অন্যতম উন্নতমানের সাইবার অপরাধের তালিকাভুক্ত হয়েছে এই ঘটনা। এই অভিনব চুরির জন্য চোরেরা ব্যবহার করেছে এই মারাত্বক কম্পিউটার ভাইরাস। (পরবর্তী অংশ)


“বিরহের গান”

অগাষ্ট 19, 2010


বহু দূরের অসীম আকাশ আজ বনরাজিনীলা পৃথিবীর শিয়রের কাছে নত হয়ে পড়ল। কানে কানে বললে, “আমি তোমারই।”

পৃথিবী বললে, “সে কেমন করে হবে। তুমি যে অসীম, আমি যে ছোট।”

আকাশ বললে, “আমি তো চার দিকে আমার মেঘের সীমা টেনে দিয়েছি।”

পৃথিবী বললে, “তোমার যে কত জোতিষ্কের সম্পদ, আমার তো আলোর সম্পদ নেই।”

আকাশ বললে, “আজ আমি আমার চন্দ্র সূর্য তারা সব হারিয়ে ফেলে এসেছি, আজ আমার একমাত্র তুমি আছ।” (পরবর্তী অংশ)


আমি আর ছোটলোক নই।

অগাষ্ট 13, 2010


না হে আমি আর ছোটলোক নেই। গত সাত দিনের মধ্যেই রাতারাতি বড়লোক হয়ে গেছি। এখন টাকাগুলো দিয়ে কি কি করা যায় সেটাই চিন্তা। তোমারাও পারলে একটু প্ল্যান ট্যান দিয়ে সাহায্য করো। কনস্যাল্টেন্সি ফি’এর চিন্তা নেই। ব্যাপারটা খুলেই বলি, দিন সাতেক আগে হঠাৎ মোবাইল ফোনে একটা মেসেজ- “তুমি দশ হাজার ডলার জিতেছ , নীচে দেওয়া ইমেল এড্রেসে যোগাযোগ কর”। আমি তখন হাওয়ায় উড়ছি, বেশ একটা ভালো দিন দেখে যোগাযোগ করবো। ও..মা.. এর মধ্যে কালকে দেখি আর একটা এস.এম.এস. – তাতে আর একজন বলছে আমি নাকি ৭৫০০০০ পাউন্ড লটারীতে জিতেছি। (পরবর্তী অংশ)


মাধুকরী-২

জুলাই 22, 2010


নিত্যদিন কাজের অকাজের নানা কথায় যে কথামালা আমরা গেঁথে চলেছি অবরত সেই কথায় কথায় কথার পাহার জমে ওঠে। প্রবহমান কথার স্রোতে কত পুরানো কথাই হারিয়ে যায় নতুন কথার ভিড়ে। যে পুরানো কথাটা এক সময় মহার্ঘ মনে হত আজ তা স্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে মূল্যহীন হয়ে। যে কথা শোনার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতাম একদিন আজ হয়ত তা গুরুত্বহীন। প্রবহমান সময়ের স্রোতে অনেক ডন্ড-পল অতিক্রম করে এসেছি, পেছন ফিরে চাইবার অবকাশ হয়নি, কিন্তু তারা আমায় একেবারে পরিত্যাগ করে নি, সমস্তটাই আমার বয়েসের অংকে যোগ হয়েছে। আজ মেঘলা আকাশের গুমোট আবহাওয়ায় আর ততধিক গুমোট সামাজিক আবহে কখনো সেই পুরোনো দিনের কোন বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেলে স্মৃতি পেছনটানে। (পরবর্তী অংশ)


বিশ্ব-উৎসবের শেষে

জুলাই 15, 2010


শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপ ফুটবল। এক মাস ব্যপি উৎসবের সমাপ্তি। রাত জেগে খেলা দেখা, পরদিন ঢুলুঢুলু চোখে অফিস যাওয়া। ফাইনাল খেলার দিন ভাবছি যেন ৯০ মিনিটেই খেলার নিষ্পত্তি হয়, তাহলে অন্তত পৌনে দু’টোয় শুতে পারব। কিন্তু না একস্ট্রা টাইমে গেলই- তখন ভাবছি ট্রাই ব্রেকারে যেন না যায়। যাক ট্রাই ব্রেকারে আর যেতে হয়নি। (পরবর্তী অংশ)