পরমানু দায়বদ্ধতা বিল (Nuclear Liability Bill)

সেপ্টেম্বর 4, 2010


অবশেষে সংসদে পাশ হয়ে গেল পরমানু দায়বদ্ধতা বিল। এটাকে ঠিক ভাবে বললে পরমানু দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তির বিল বলা উচিৎ। বিলটা নিয়ে সরকারের উৎসাহ এবং তা নিয়ে না না বিতর্ক অনেকদিন ধরেই চলছিল। সরকার চাইছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের আগেই বিলটা পাশ করাতে।

বিলটা নিয়ে বিতর্ক মোটামুটি তিনটি বিষয়ে–

১) যেখানে ১৯৬০ সাল থেকে দেশে পরমানু চুল্লী ব্যবহৃত হচ্ছে, হঠাৎ এখন কি এমন দরকার পড়ল নতুন বিলের।

২) ক্ষতিপূরনের পরিমান নিয়ে বিতর্ক। প্রথমে সরকার ঠিক করেছিল ৫০০ কোটি টাকা, পরে বিরোধিতার চাপে শেষ পর্যন্ত্য ১৫০০ কোটি টাকা নির্ধারন করেছে। যদিও এই পরিমান নিয়েও সঙ্গত বিরোধিতা আছে। যেখানে খোদ আমেরিকায় ক্ষতিপূরনের অঙ্ক ১১৯০ কোটি ডলার সেখানে আমেরিকান কোম্পানির জন্য এবং ভবিষ্যৎ ভারতীয় পরমানু উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর দায়বদ্ধতা মাত্র ১৫০০ কোটি? (পরবর্তী অংশ)


6th August, 1945

অগাষ্ট 7, 2010

(১৯৪৫-এর ৬ই আগষ্ট, সকাল আটটা বেজে পনেরো মিনিট, রৌদ্রকরোজ্জ্বল হিরোশিমার যে আকাশে উড়োজাহাজ ‘এনোলা গে’ ‘লিটিল বয়’কে বয়ে এনে ছেড়ে দিল, মাটি থেকে সেই ঊর্ধ্বাকাশে লক্ষ সূর্যের ঝলকানি থেকে তিন মাইল দূরে দাঁড়িয়েছিলেন ৩৩ বছর বয়স্কা ফুতাবা কিতাইয়ামা। বিস্ফোরণের ছ’ঘন্টা পরে কন্ঠনালী গলে যাবার আগে রেডক্রশ প্রতিনিধিদের কাছে অভিঞ্জতার যে নিদারুন চিত্রটি দেখিয়েছিলেন বর্ণনায়–নীচের সংলাপগুলি তারই টুকরো অংশ।)

কে যেন চিৎকার করে উঠল—প্যারাস্যুট, পারাস্যুট নামছে, কানে যেতেই চমকে আকাশের দিকে তাকালাম। পরমুহূর্তেই এক ঝলক নীলাভ সাদা আলো, যার কোনো শিখা নেই, আমার চোখ ধাঁধিয়ে দিল। দ্রুত ধাবমান রেলগাড়ির মতো পায়ের তলার মাটি দুলে উঠছে। মাটির ওপর আমি সটান পরে গেলাম। পরমুহূর্তেই ধ্বংসস্তুপের নীচে তলিয়ে যাচ্ছি, আমি চাপা পরে গেলাম বাড়িঘর, দেয়াল দরজা, কড়ি বরগার অন্ধকারে। তবু আপ্রান চেষ্টায় ভষ্ম আর ধ্বংসস্তুপের মধ্যে থেকে কোনোক্রমে বেরিয়ে এলাম। (পরবর্তী অংশ)


“জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড”

জুন 26, 2010


২৫ বছরেরও বেশি সময় লাগল ভুপাল গ্যাস দুর্ঘটনার বিচার শেষ হতে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদ্য নিযুক্ত চেয়ারপার্সন কে.জি. বালকৃষ্ণণও মানছেন যে রায় বেরোতে বেশ দেরিই হয়েছে। কিন্তু শুধুই কি দেরি- যে দুর্ঘটনায় ২৫,০০০ মানুষের মৃত্যু হল, যে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে চিরতরে বিকলাঙ্গ হয়ে গেল আরও কয়েকটি প্রজন্ম, যে দুর্ঘটনার জেরে আজও জন্মাচ্ছে বিকলাঙ্গ শিশু-সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাজা মাত্র দু’বছর? এই ২৫ বছরে আক্রান্তদের অনেকেই মারা গেছেন, আর যারা এখনও বেঁচে আছেন তাদের মধ্যে অনেকে শরীরে বিষ নিয়ে প্রতিদিনকার জীবনসংগ্রামে লড়াই করতে করতে হতাশায় মানসিক রোগগ্রস্ত- যাদের সামান্য আয়ের সিংহভাগই খরচ হয়ে যায় চিকিৎসায় – শুধুমাত্র ন্যায় বিচারের আশায় বুক বেধে দলে দলে হাজির হয়েছিলেন আদালতের বাইরে। তাদের কাছে এই রায় কি বার্তা বয়ে আনে, রাষ্ট্রের প্রতি- বিচার ব্যবস্থার প্রতি তাদের কতটা আস্থাশীল করতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এই দীর্ঘ সময়ে নদীতে অনেক জল বয়ে গেছে- আক্রান্ত মানুষগুলো এবং কিছু নাছোড়বান্দা মানুষ-N.G.O. কর্মী বাদ দিয়ে বাকি ভারতবাসী ঐ ঘটনার কথা-ঐ মানুষগুলোর কথা ভুলেই গেছে। যাদের বয়স কম তারা জানেই না এই ঘটনার কথা। বিচারে দেরীর কি এটাই উদ্দেশ্য? (পরবর্তী অংশ)


ব্যবসা-ভিক্ষাবৃত্তি

জুন 12, 2010


গাড়ি করে চলেছেন গন্তব্যের দিকে- ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে পরেছেন-একটা অপরিচ্ছন্ন, অশক্ত, অভুক্ত মানুষের করুন হাত আপনার দিকে এগিয়ে এলো-”দুটো পয়সা দেবেন”- এ অভিজ্ঞতা আমাদের সবারই কম বেশী আছে। বড় বড় রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, মন্দির-মসজিদ বা যেখানে লোক সমাগম বেশী সেখানে এদের উপস্থিতি আমাদের সবারই নজরে পরে প্রতিনিয়তই। ছোট ছোট শিশু, অস্থিচর্মসার বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, রুগ্ন মহিলা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধি মানুষগুলোর ভিক্ষের জন্য করুণ আর্তিতে বেদনাহত হয়ে বা অনেক সময় পূণ্যলাভের আশায় -আমরা কিছু সাহায্য করি। কিন্তু আমরা যেটা অনেকেই জানিনা যে ওই ভিক্ষার অর্থ যা আমরা ভিখিরিটির হাতে তুলে দিলাম তাতে হয়তো তার কোনোই অধিকার নেই।
(পরবর্তী অংশ)


দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন (Sustainable Development)

মে 26, 2010


3D সিনেমা জেমস্ ক্যামেরণের ‘AVATER’। এই ছবিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্যান্ডোরা নামের একটি গ্রহ আক্রমন করে, উদ্দেশ্য সেই গ্রহের আকরিক সম্পদ হাতানো। প্যান্ডোরার অধিবাসী, ন্যাভিরা আবার প্রকৃতি ও পশুপাখির ভাষা বোঝে, তারা বিশ্বাস করে সমস্ত সপ্রাণ বস্তুর মধ্যে ক্রিয়াশীল এক নেটওয়ার্কের ওপর– সহজ কথায় যা হল ‘বন্ডিং’। এই ‘বন্ডিং’ এর বলে কীভাবে ন্যাভিরা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে প্যান্ডোরা ছাড়া করে তাই নিয়েই ছবির অসাধারণ সব দৃশ্যকল্পনা। ‘অবতার’ এর বিবেকদংশিত পরিচালক বলতে চেয়েছেন, প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি সম্ভ্রম দেখালে তবেই তারা মানুষকে তাদের সম্পদের ভাগীদার করবে, নচেৎ ঠিক প্যান্ডোরার মাটি থেকে আমেরিকাকে বিতারণের মতোই এই সভ্যতাকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে বিলীনতার গর্ভে। (পরবর্তী অংশ)


শুধু একটু ছোঁয়া

মে 20, 2010


যুগ যুগ ধরে একজন সফল পুরুষের পেছনে এক প্রেরণাদায়ী নারীর গাথা আমরা শুনে আসছি। পুরুষদের সমস্ত দুঃসাহসিক-ঝুকিঁপূর্ন কর্মকান্ডের পেছনে এক নারীর উপস্থিতি মহাকাব্যে, গল্পে-গাথায়, কাহিনি-আখ্যানে আমরা শুনে আসছি। ‘রামায়ন’ মহাকাব্যে সীতার সোনার হরিণের বায়না মেটাতে রামচন্দ্র কি কান্ডটাই না করলেন আমরা জানি। বা ‘মহাভারত’ মহাকাব্যে দ্রৌপদীর প্রেরণায় কি ঝুকিঁপূর্ন অসম যুদ্ধে পান্ডবেরা জড়ালেন তা কে না জানে। অথবা হোমারের ‘ওডিসি’ মহাকাব্যের কেন্দ্রেও তো সেই একজন নারী। বাজারের চলতি সিনেমাগুলোতে নায়িকার একটু ছোঁয়ায় নায়ক খালি হাতে একশ গুন্ডাকে পিটিয়ে ঠান্ডা করে দিচ্ছে এতো আমরা হামেশাই দেখছি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে একজন নারীর প্রেরণায় একজন পুরুষ নিজেকে অতিক্রম করে যেতে পারে বা করতে উদ্যোত হয়। (পরবর্তী অংশ)


সম্মানের জন্য হত্যা (Honour Killing)

মে 14, 2010


সম্প্রতি বাইশ বছরের তরুনী সাংবাদিক নিরুপমা পাঠকের হত্যার খবর আমাদের আলোরিত করেছে।ঝাড়খন্ডের বাসিন্দা নিরুপমা দিল্লিতে মাস কমিউনিকেশন এর পাঠ শেষ করে দিল্লিরই একটা সংবাদপত্রে চাকরি করছিলেন। কলেজে পড়ার সময়েই পরিচয় হয় প্রিয়ভাংশু রঞ্জনের সঙ্গে, পরে ঘনিষ্ঠতা। কিন্তু এই ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারেনি নিরুপমার পরিবার, কারন প্রিয়ভাংশু অপেক্ষাকৃত নীচু জাত। সেই কারনে, তথাকথিত সম্মান রক্ষার জন্য নিরুপমাকে হত্যা করে তার পরিবার। মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে নিরুপমার মা শুভা পাঠক এখন হাজতে।
(সম্প্রতি ‘মনন মন’ ও ‘তুসিনের’ ব্লগে Mothers’ Day বা মাতৃ দিবস উপলক্ষে সুন্দর দু’টো লেখা পড়লাম। ওরা ওদের মায়ের কথা লিখেছে। এও এক ‘মা’) নিরুপমা রাজধানীর সংবাদপত্রকর্মী ছিল। তার মৃত্যুর পর সহকর্মীরা যেভাবে সক্রিয় প্রতিবাদে নামে, মিছিল করে, তাতে করে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু ভারতবর্ষের, বিষেশতঃ উত্তর ভারতের আনাচে কানাচে যে নিরুপমারা প্রতিনিয়ত এই কুসংস্কারের বলি হচ্ছে তাদের খবর আমাদের কাছে পৌছয় না, অপরাধীদের শাস্তি দুরস্ত।

প্রাচীন মহাকাব্যে আমরা দেখেছি রামচন্দ্র সীতাকে লঙ্কা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার পরে তার সূচীতা বা সতীত্ব প্রমানে প্রকাশ্য রাজসভায় অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছিল। অগ্নিপ্রীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ার পরে সীতা আর বেঁচে থাকতে চান না, পাতালে প্রবেশ করেন। ধরণী দু’ভাগ হয়ে সীতা কে আশ্রয় দেয়। মহাকাব্যে যতই অগ্নিপরীক্ষা-পাতাল প্রবেশ বলে আড়াল করার চেষ্টা করা হোক না কেন সীতাকে যে রাজপরিবারের সম্মানের জন্য পুড়িয়ে মারা হয়েছিল সে বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। (পরবর্তী অংশ)