কিয়োটো চুক্তি-এক বাতিল কাগজ?

ডিসেম্বর 15, 2010


মেক্সিকোর কানকুন সমুদ্রসৈকতের বিলাসবহুল রিসর্টে দু’সপ্তাহ ধরে চলা চাপান উতর শেষে সর্ব্বসম্মত ভোট ছাড়াই শেষ হল বৈঠক। ঠিক গত বছর কোপেনহেগেনে যা ঘটেছিল ঠিক যেন সেই চিত্রনাট্যেরই পুনরাবৃত্তি। কিয়োটো পরিবেশ চুক্তি যে এই ভাবে এক বছর থেকে পরের বছরের পরিবেশ শীর্ষ বৈঠকে চালান হতে হতে বাতিল কাগজের ঝুড়িতে স্থান পাবে, সে নিয়ে প্রায় আর কোনও সন্দেহ নেই। ২০১০ -এ কিয়োটো প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। হয়নি তার মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে কোনও চুক্তি। স্বভাবতই উন্নত দেশগুলো খুশি। শেষ পর্যন্ত বেশ সফলভাবেই তারা প্রায় ভেস্তে দিল কিয়োটো চুক্তিকে। (পরবর্তী অংশ)


দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন (Sustainable Development)

মে 26, 2010


3D সিনেমা জেমস্ ক্যামেরণের ‘AVATER’। এই ছবিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্যান্ডোরা নামের একটি গ্রহ আক্রমন করে, উদ্দেশ্য সেই গ্রহের আকরিক সম্পদ হাতানো। প্যান্ডোরার অধিবাসী, ন্যাভিরা আবার প্রকৃতি ও পশুপাখির ভাষা বোঝে, তারা বিশ্বাস করে সমস্ত সপ্রাণ বস্তুর মধ্যে ক্রিয়াশীল এক নেটওয়ার্কের ওপর– সহজ কথায় যা হল ‘বন্ডিং’। এই ‘বন্ডিং’ এর বলে কীভাবে ন্যাভিরা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে প্যান্ডোরা ছাড়া করে তাই নিয়েই ছবির অসাধারণ সব দৃশ্যকল্পনা। ‘অবতার’ এর বিবেকদংশিত পরিচালক বলতে চেয়েছেন, প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি সম্ভ্রম দেখালে তবেই তারা মানুষকে তাদের সম্পদের ভাগীদার করবে, নচেৎ ঠিক প্যান্ডোরার মাটি থেকে আমেরিকাকে বিতারণের মতোই এই সভ্যতাকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে বিলীনতার গর্ভে। (পরবর্তী অংশ)


গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা ভূ-উষ্ণায়ন (২)

মে 1, 2010

ভূ-উষ্ণায়ন – ফলাফল


ভূ-উষ্ণায়নের ফলে ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। বিগত ৮০০০ বছর ধরে এই তাপমাত্রা প্রায় স্থির ছিল। কিন্তু গত ১০০ বছরের হিসেবে দেখা যাচ্ছে এই তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১০০ বছর আগের তুলনায় ০.৩ ডিগ্রি থেকে ০.৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বেশী। হিমবাহ গলবে দ্রুত হারে, সমুদ্রের জলতল সেই সূত্রে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়লে বাষ্পীভবনের মাত্রাও বাড়বে। ভৌগলিক নিয়মে সব জলীয় বাষ্প গিয়ে জমা হবে সমুদ্রের ওপর। ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত এর সম্ভাবনাও বাড়বে। ডুবে যেতে পারে উপকুলবর্তী অঞ্চল। ভারত, বাংলাদেশের সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চল, মালদ্বীপ এই জায়গাগুলো জলের তলায় তলিয়ে যাবে। তাপমাত্রার বর্তমান বৃদ্ধিতেই ভয়ঙ্কর পরিণতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ফলে খরা-বন্যা, প্রবল বজ্রপাত, ঝড়-ঝঞ্ঝা, প্রলয়ঙ্কর সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি নতুন নতুন মারক রোগের উৎপত্তি, কলেরা-ডেঙ্গু-প্লেগ এই সব রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি, শস্যহানি, দেশে দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এভাবে চললে তাপমাত্রা বাড়তে পারে ২.৫ থেকে ৫ ডিগ্রি সেন্ত্রিগ্রেড পর্যন্ত। ফলে কি কি ধরনের বিপদ ঘটতে পারে– সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি। এই উচ্চতা ২১০০ সালের মধ্যে ৯ থেকে ৮৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রতীরবর্তী নিচু জায়গাগুলি জলমগ্ন হবে। ভারত, বাংলাদেশের সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চল, মালদ্বীপ এই জায়গাগুলো জলের তলায় তলিয়ে যাবে। ভারতের ক্ষেত্রে অনুমান ৫৭০০ বর্গ কিলোমিটার জমি এবং ৪২০০ কিলোমিটার রাস্তা জলের নিচে তলিয়ে যাবে। (পরবর্তী অংশ)


গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা ভূ-উষ্ণায়ন

এপ্রিল 24, 2010

ভূ-উষ্ণায়ন-প্রাক-কথন


গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা ভূ-উষ্ণায়ন পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের কোনও সাম্প্রতিক রোগ নয়, এ হলো রোগের লক্ষণ। রোগ লুকিয়ে আছে বর্তমানে প্রচলিত যান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতির গভীরে। যে উৎপাদন পদ্ধতির কেন্দ্রীয় ভাবনা হলো, মানুষ সর্বশক্তিমান। যে মানুষের গন্ডি আবার ক্রমশ ছোট হতে হতে হাতে গোনা কয়েকটি বহুজাতিক কর্পোরেশনে পর্যবসিত। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে সভ্যতার এই ভাবনা নিয়ে চলা দ্রুততর হয়। তার আগে পর্যন্ত মানুষের প্রকৃতি নির্ভরতা বেশি থাকায় উৎপাদন পদ্ধতির সঙ্গে প্রকৃতির ভূ-জৈব রাসায়ানিক চক্র এবং অদৃশ্য অথচ গোপন গভীর শৃ‍‌ঙ্খলার মিল ছিল। বৈজ্ঞানিক ভাষায় যে উৎপাদনকে বলা যায় সাসটেইনেবল বা দীর্ঘস্থায়ী। চিন্তাবিদ জে ডি বার্নালের মতে প্রকৃতিতে বিবর্তনের পথে মানুষ আসার পর, তার ক্ষেত্রে প্রকৃতির অন্যান্য প্রজাতি সঙ্গে ‘স্ট্রাগল ফর একজিস্টেনশ’ অর্থহীন। অর্থাৎ যদি অন্যান্য প্রজাতির সঙ্গে মানুষ এই লড়াই লড়ে তবে অন্যরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এই সত্য ইতিমধ্যেই প্রমাণিত।
(পরবর্তী অংশ)


২০১২ – দ্য নিউ অর্ডার

এপ্রিল 21, 2010


এর মধ্যে আমরা অনেকেই হয়তো দেখে ফেলেছি ‘২০১২’ ছবিটি- মহা প্রলয়ের ছবি। বহুকাল আগে মায়া সভ্যতার মানুষেরা ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন ২০১২-র ২১ ডিসেম্বর পৃথিবীতে শুরু হবে ‘নিউ অর্ডার’। কী সেই ‘অর্ডার’ — সেদিন কি হিন্দুদের মহাপ্রলয় বা খৃষ্টানদের ‘Apocalypse’ এর মাধ্যমে পৃথিবীতে ঈশ্বরের শাসনের সূচনা। তার ওপর বিস্তর গবেষণা চলছে। সিনেমাটিতে দেখিয়েছে সূর্যের বিকীরণে হঠাৎ বিস্ফোরণ, পৃথিবীর ভূচুম্বকীয় ক্ষেত্রে পরিবর্তন, টেকটনিক প্লেটগুলির নড়াচড়া, ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলের তাপমাত্রা অসম্ভব বেড়ে যাওয়া এবং এর সামগ্রিক ফলে এক সঙ্গে প্রলয়ঙ্কর ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরিরগুলোর জেগে ওঠা এবং পরিশেষে প্রবল সুনামি। প্রথম আক্রান্ত আমেরিকা, হাজারো সাধারণ মানুষের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সুনামির ঢেউয়ে মিলিয়ে জান জলে। ছবির শেষে দেখা যায় প্রলয়ের শেষে আবার প্রকৃতি শান্ত, যেন এক নতুন যুগে, নোয়ার নৌকোর আধুনিক সংস্করণ বিশাল জাহাজের কিছু মানুষ যাত্রা শুরু করেছে আফ্রিকার ‘কেপ অফ গুড হোপ’-এর উদ্দেশ্যে। এটা কি প্রতিকি। প্রথম আক্রান্ত আমেরিকা, যারা দূষণের প্রধান অংশিদার। আর আশ্রয় সেই আফ্রিকা – যেখানে বনরাজি এখনো কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়নি- সেই প্রকৃতির কাছেই আশ্রয়। আমাদের চিরাচরিত উন্নয়ন ভাবনাই আজ প্রশ্নের মুখে। আরো sustainable development এর কথা আমাদের ভাবতে হবে, global worming নিয়ে আরও সদর্থক হতে হবে। (এ বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে লেখা যাবে)।