কিয়োটো চুক্তি-এক বাতিল কাগজ?

ডিসেম্বর 15, 2010


মেক্সিকোর কানকুন সমুদ্রসৈকতের বিলাসবহুল রিসর্টে দু’সপ্তাহ ধরে চলা চাপান উতর শেষে সর্ব্বসম্মত ভোট ছাড়াই শেষ হল বৈঠক। ঠিক গত বছর কোপেনহেগেনে যা ঘটেছিল ঠিক যেন সেই চিত্রনাট্যেরই পুনরাবৃত্তি। কিয়োটো পরিবেশ চুক্তি যে এই ভাবে এক বছর থেকে পরের বছরের পরিবেশ শীর্ষ বৈঠকে চালান হতে হতে বাতিল কাগজের ঝুড়িতে স্থান পাবে, সে নিয়ে প্রায় আর কোনও সন্দেহ নেই। ২০১০ -এ কিয়োটো প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। হয়নি তার মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে কোনও চুক্তি। স্বভাবতই উন্নত দেশগুলো খুশি। শেষ পর্যন্ত বেশ সফলভাবেই তারা প্রায় ভেস্তে দিল কিয়োটো চুক্তিকে। (পরবর্তী অংশ)


অঞ্জাতবাস

ডিসেম্বর 8, 2010

নাঃ, অঞ্জাতবাসে আর থাকা গেল না।
পান্ডবদের কথা মনে আছেতো- শর্ত ছিল অঞ্জাতবাসে ধরা পরে গেলে আবার বা..রো বছর বনবাস।
কিছু দিন নিজেকে নিজের কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছিল। আমার সব কিছু আমাতেই আছে তো। আয়নার সামনে দাঁড়ালাম, না ওপর ওপর সব ঠিকই আছে। মুখ, চোখ, নাক, কান সবই ঠিকই মনে হচ্ছে। ঠোঁটের কোণের শূন্যকলস ঢাকা দেওয়া সবজান্তা হাসিটিও ঠিক ঠাক। তবুও সন্দেহটা যাচ্ছিল না বুক পকেটের নীচের যন্ত্রটা যেন মনে হচ্ছে গোলমাল করছে। পুরোনো ভাইরাল রোগটাই ফিরে এলো না কি? হু.. মনে হচ্ছে তাই। ভেতর থেকে ভাইরাসটা বলে চলেছে, ”কি করছিস ভেবে দেখেছিস। ভাবছিসতো ফাটিয়ে দিচ্ছিস আসলে পুরোটাই ফোক্কা-ভষ্মে ঘি”। ঝাঁজিয়ে বললাম, “কেন একথা বলছিস কেন কিছুই কি করছি না।” ও বলল, “তুই বলছিস, কিন্তু দর্শকরা? স্টেজে উঠলে দু’হাজার ওয়াটের স্পটগুলো তোর মুখেই পড়বে। ফোকাসের জোড়ালো আলোয় শুধু সহ অভিনেতাদের মুখই শুধু দেখা যায় দর্শকদের মুখ দেখা যায় না, ঝাপসা কিছু অবয়ব, এই ব্যাপারটাই ভুলে মেরে দিয়েছিস?” এবার আমি ঘাবরে গেলাম। আর ভাইরাসটাও আমার ওপর চেপে বসলো। আর ঠিক সেই মূহুর্তেই মনে পরে গেলো পিনাকিদার এককালে লেখা এই লাইন কটা- (পরবর্তী অংশ)


‘ডঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায় – কিছু প্রশ্ন’

অক্টোবর 9, 2010


বাঙালী কাঁকড়ার জাত। এই বহু প্রচলিত কথাটা আবারও প্রাসঙ্গিকভাবেই মনে এলো চিকিৎসা বিভাগে এবারের নোবেল পুরষ্কার ঘোষনার পর। চিকিৎসা বিঞ্জানে এবার নোবেল পুরষ্কার পেলেন ব্রিটিশ বিঞ্জানী প্যাট্রিক স্টেপ্টো ও রবার্ট এডওয়ার্ড। এনারা পৃথিবীর প্রথম ‘টেস্ট টিউব বেবীর’ জন্ম দেন ২৫শে জুলাই, ১৯৭৮। এর ঠিক ৬৭ দিন পরে ৩রা অক্টোবর, ১৯৭৮ সালে পশ্চিমবঙ্গে ডাঃ সুভাষ মুখার্জী জন্ম দেন ভারতের প্রথম এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় টেস্ট টিউব বেবী ‘দুর্গার’। অবশ্য সেই স্বীকৃতি তিনি জীবিত অবস্থায় পান নি। সরকারীভাবে স্বীকৃত ভারতের প্রথম টেস্ট টিউব বেবীর জনক টি.সি. আনন্দ কুমার ডাঃ মুখার্জীর গবেষনার কাগজপত্র দেখে ওনাকেই পথিকৃৎ হিসেবে মেনে নেন। ডঃ কুমার বর্তমানে ডঃ সুভাষ মুখার্জীর স্মৃতি রক্ষার্থে reproductive biology নিয়ে গবেষণার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজে লিপ্ত আছেন। (পরবর্তী অংশ)


পরমানু দায়বদ্ধতা বিল (Nuclear Liability Bill)

সেপ্টেম্বর 4, 2010


অবশেষে সংসদে পাশ হয়ে গেল পরমানু দায়বদ্ধতা বিল। এটাকে ঠিক ভাবে বললে পরমানু দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তির বিল বলা উচিৎ। বিলটা নিয়ে সরকারের উৎসাহ এবং তা নিয়ে না না বিতর্ক অনেকদিন ধরেই চলছিল। সরকার চাইছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের আগেই বিলটা পাশ করাতে।

বিলটা নিয়ে বিতর্ক মোটামুটি তিনটি বিষয়ে–

১) যেখানে ১৯৬০ সাল থেকে দেশে পরমানু চুল্লী ব্যবহৃত হচ্ছে, হঠাৎ এখন কি এমন দরকার পড়ল নতুন বিলের।

২) ক্ষতিপূরনের পরিমান নিয়ে বিতর্ক। প্রথমে সরকার ঠিক করেছিল ৫০০ কোটি টাকা, পরে বিরোধিতার চাপে শেষ পর্যন্ত্য ১৫০০ কোটি টাকা নির্ধারন করেছে। যদিও এই পরিমান নিয়েও সঙ্গত বিরোধিতা আছে। যেখানে খোদ আমেরিকায় ক্ষতিপূরনের অঙ্ক ১১৯০ কোটি ডলার সেখানে আমেরিকান কোম্পানির জন্য এবং ভবিষ্যৎ ভারতীয় পরমানু উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর দায়বদ্ধতা মাত্র ১৫০০ কোটি? (পরবর্তী অংশ)


“প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তরতো জানা….”

সেপ্টেম্বর 1, 2010


প্রশ্নঃ
সম্প্রতি সীতারাম ইয়েচুরির একটা মন্তব্য খবরের কাগজে দেখলাম। বলেছেন, “যখন ছাত্র সংগঠন করতাম দেখতাম দপ্তরের বাইরে অনেক সাইকেল। তারপর যখন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হলাম দেখতাম দপ্তরের বাইরে অনেক স্কুটার। আর এখন পলিটব্যুরোর সদস্য, এখন দপ্তরের বাইরে দেখি গাড়ীর মেলা। জানি না এটা উন্নতি না বিচ্যুতি।”
উত্তরঃ
আমি নিজে কোনো মন্তব্য করব না, কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ২৫ বছর আগে লেখা একটা কবিতা দিয়ে দিলাম–

    ঘোড়া

"কাল থেকে ঠিক পালটে যাব
দেখে রাখিস তোরা,"
বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ল অশ্বমেধের ঘোড়া
পথের মধ্যিখানে ।
 (পরবর্তী অংশ)

আমি আর ছোটলোক নই।

অগাষ্ট 13, 2010


না হে আমি আর ছোটলোক নেই। গত সাত দিনের মধ্যেই রাতারাতি বড়লোক হয়ে গেছি। এখন টাকাগুলো দিয়ে কি কি করা যায় সেটাই চিন্তা। তোমারাও পারলে একটু প্ল্যান ট্যান দিয়ে সাহায্য করো। কনস্যাল্টেন্সি ফি’এর চিন্তা নেই। ব্যাপারটা খুলেই বলি, দিন সাতেক আগে হঠাৎ মোবাইল ফোনে একটা মেসেজ- “তুমি দশ হাজার ডলার জিতেছ , নীচে দেওয়া ইমেল এড্রেসে যোগাযোগ কর”। আমি তখন হাওয়ায় উড়ছি, বেশ একটা ভালো দিন দেখে যোগাযোগ করবো। ও..মা.. এর মধ্যে কালকে দেখি আর একটা এস.এম.এস. – তাতে আর একজন বলছে আমি নাকি ৭৫০০০০ পাউন্ড লটারীতে জিতেছি। (পরবর্তী অংশ)


6th August, 1945

অগাষ্ট 7, 2010

(১৯৪৫-এর ৬ই আগষ্ট, সকাল আটটা বেজে পনেরো মিনিট, রৌদ্রকরোজ্জ্বল হিরোশিমার যে আকাশে উড়োজাহাজ ‘এনোলা গে’ ‘লিটিল বয়’কে বয়ে এনে ছেড়ে দিল, মাটি থেকে সেই ঊর্ধ্বাকাশে লক্ষ সূর্যের ঝলকানি থেকে তিন মাইল দূরে দাঁড়িয়েছিলেন ৩৩ বছর বয়স্কা ফুতাবা কিতাইয়ামা। বিস্ফোরণের ছ’ঘন্টা পরে কন্ঠনালী গলে যাবার আগে রেডক্রশ প্রতিনিধিদের কাছে অভিঞ্জতার যে নিদারুন চিত্রটি দেখিয়েছিলেন বর্ণনায়–নীচের সংলাপগুলি তারই টুকরো অংশ।)

কে যেন চিৎকার করে উঠল—প্যারাস্যুট, পারাস্যুট নামছে, কানে যেতেই চমকে আকাশের দিকে তাকালাম। পরমুহূর্তেই এক ঝলক নীলাভ সাদা আলো, যার কোনো শিখা নেই, আমার চোখ ধাঁধিয়ে দিল। দ্রুত ধাবমান রেলগাড়ির মতো পায়ের তলার মাটি দুলে উঠছে। মাটির ওপর আমি সটান পরে গেলাম। পরমুহূর্তেই ধ্বংসস্তুপের নীচে তলিয়ে যাচ্ছি, আমি চাপা পরে গেলাম বাড়িঘর, দেয়াল দরজা, কড়ি বরগার অন্ধকারে। তবু আপ্রান চেষ্টায় ভষ্ম আর ধ্বংসস্তুপের মধ্যে থেকে কোনোক্রমে বেরিয়ে এলাম। (পরবর্তী অংশ)